বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)'র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা ও গ্রেফতার, মিডিয়াসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা-মহামারি মোকাবিলায় জাতীয় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিন্তু সরকার সেই পথে হাঁটছে না। করোনা-মহামারি মোকাবিলার স্বার্থেই সরকারের উদ্যোগ ও কার্যক্রমের গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া খুবই জরুরি এবং প্রয়োজনীয় কর্তব্য। সমালোচনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে, সরকার উল্টো সমালোচনাকারীদের আক্রমণ করায়, করোনা-মোকাবিলার কাজটিই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকারের দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়হীনতা, অদূরদর্শীতার কারণে জনগণ এখন চরম হুমকির মধ্যে। ব্যর্থতা আর লুটপাট ঢাকতে সরকার নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। লুটপাটের খবর মিডিয়ায় প্রকাশ করা এবং সামাজিক মাধ্যমে লুটপাটের বিরুদ্ধে লেখা ও সরকারের সমালোচনা করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও ‘রাষ্ট্রচিন্তা’র সদস্য মো. দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ, মিনহাজ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা দেয়া হয়েছে। এর আগে ৫৪ দিন নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল ‘উদ্ধার’ হওয়ার পর ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ মামলা করা হয়েছে। মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মিডিয়ার ওপর অব্যাহত রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নিবর্তনমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ অবিলম্বে বাতিল এবং এই আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করেছেন।
Login to comment..