Revolutionary democratic transformation towards socialism

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি হামলায় অর্ধশত আহত, ৪ জন গ্রেফতার আগামীকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা


আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন হঠাও- এই আহ্বান জানিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট আজ ৩০ ডিসেম্বর দেশব্যাপী “কালো দিবস” পালনের ঘোষণা দেয়। ১ বছর পূর্বে এই দিনে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে যে প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তার প্রতিবাদে আজ ঢাকাসহ সারাদেশে কালো পতাকা প্রদর্শন ও বিক্ষোভ-কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল এবং প্রহসনের সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বর্তমান সরকার। অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারের ফ্যাসিস্ট শাসনে আজ জর্জরিত গোটা দেশের জনগণ। বাম গণতান্ত্রিক জোট কালো দিবস পালনের অংশ হিসেবে আজ ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ

মিছিলের ডাক দেয়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে প্রেসক্লাবের সামনে মিছিলপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ইউসিএলবি’র সাধারণ সম্পাদ মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ মার্কসবাদী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন দুলাল, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি’র সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল

হক। সভা পরিচালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনিরউদ্দিন পাপ্পু। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ১ বছর পূর্ব অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে “ভোট ডাকাতির” প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সেই নির্বাচনকে “ভুয়া নির্বাচন” এবং ভুয়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারকে “ভুয়া সরকার” বলে অভিহিত করেন। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিল, ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগ এবং একইসাথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান। ঘোষিত দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দ জনগণকে সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা বিক্ষোভ মিছিল কয়েক দফা পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। হাইকোর্টের সামনে

পুলিশি বাধা অতিক্রম করে বিক্ষোভ মিছিল মৎস্য ভবনের সামনে গেলে দ্বিতীয় দফায় বাধা দেয় পুলিশ এবং নির্বিচারে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি, মঞ্জুর মঈন, মনিকা খালেদ, নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, হযরত আলী, আবু হাসান টিপু, লিপি আক্তার, রিমি, রাবেয়া, সৈকত, জহর লাল রায়, আরমান, শুভ, মাসুদ, তমা, সুমি, সুপ্তি, সোমা, সোহাগী, সুস্মিতা মরিয়ম, সুমাইয়া সোমাসহ ৫০ জন গুরুতর আহত হন। আহত নারীদের কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে তাদের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করার অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ মৎস্য ভবন এলাকা থেকে যুবনেতা শরিফুল আনোয়ার সজ্জ্বন, ছাত্রনেতা রুবায়েত আল সজল, ক্ষেতমজুর নেতা আব্দুল ওয়াহেদ ও বাসদ নেতা তানিমকে গ্রেফতার করে। এছাড়া দিনাজপুরে

সমাবেশের চেষ্টা করলে যুবনেতা অমৃত রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগামীকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা পুলিশি আক্রমণের পর মৎস্য ভবন থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাবে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারী দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেন। একইসাথে গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জোটের মিছিলে আক্রমণের প্রতিবাদে আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার সারাদেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..