Revolutionary democratic transformation towards socialism

গ্যাস রপ্তানি ও দাম বৃদ্ধির সুযোগ রেখে প্রণীত পিএসসি ২০১৯ বাতিলের দাবি জানিয়েছে সিপিবি “বহুজাতিক কোম্পানি, কমিশনভোগী ও লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষিত হবে”

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে আবারও গ্যাস রপ্তানির সুযোগ রেখে এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়ে নতুন অফশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) ২০১৯-এর খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সমুদ্রের পিএসসি ২০১৯ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সমুদ্রের গ্যাস উত্তোলনে যে পিএসসি-২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে বিদেশি কোম্পানিকে রপ্তানির সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশকে যে গ্যাস কিনতে হবে, তা বাড়িয়ে ৭.২৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে, ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে, যাতে কার্যত এই গ্যাসের দাম পড়বে ১০ মার্কিন ডলার। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এর আগে মডেল পিএসসি ২০০৮-এ রপ্তানির সুযোগ রাখায় দেশব্যাপী আন্দোলন হয়েছিল। আন্দোলনের এক পর্যায়ে দেশবাসী হরতাল পালন করে রপ্তানিমুখী পিএসসি’র বিরুদ্ধে অবস্থান ঘোষণা করেছিল। সরকার দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও আবারও সমুদ্রের গ্যাস রপ্তানির সুযোগ রেখে যে পিএসসি করল, তাতে ভবিষ্যতে নিজেদের গ্যাস বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত হবে এবং গ্যাস সংকটের দেশে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনমত উপেক্ষা করে একদিকে উচ্চ মূল্যে এলএনজি (লিকুইড ন্যচারাল গ্যাস) আমদানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে সমুদ্রের গ্যাস রপ্তানির পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা না করে, সরকার বহুজাতিক কোম্পানি, কমিশনভোগী ও দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করার পথেই এগোচ্ছে। বিবৃতিতে নেতৃবন্দ অবিলম্বে যে কোনো অজুহাতে গ্যাস রপ্তানির সিদ্ধান্ত বাতিল, শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করে সমুদ্রসহ স্থলভাগের গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ এবং দেশের স্বার্থেই গ্যাস সম্পদ ব্যাবহারের দাবি জানান। বিবৃতিতে সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রুখে দাঁড়াতে এবং ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে শামিল হতে সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..