Revolutionary democratic transformation towards socialism

সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে সিপিবি’র ক্ষোভ সংবিধান বর্নিত জোট নিরপেক্ষ নীতি ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ শাহ আলম আজ, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ একটি গুরুতর ভুল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার নিন্দা করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সৌদি আরব মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল এবং হানাদার বাহিনীকে অস্ত্র, অর্থ, কূটনৈতিক মদদ দিয়েছিল। ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের পর জামাত নেতা গোলাম আযমসহ একাত্তরের ঘাতকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল সৌদি আরব। একাত্তরের গণহত্যার সহায়তাকারীর দায় থেকে সৌদি আরব মুক্ত নয়। আজ পর্যন্ত সে দেশটি একাত্তরে তাদের কৃতকর্মের ভুল স্বীকার এবং সে কারণে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরঞ্চ সৌদি সরকার উল্টা জামায়াত-শিবিরসহ স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির মদদদাতা হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কয়েক যুগ ধরে ‘জোট নিরপেক্ষতার’ নীতির স্বপক্ষে সংগ্রাম করেছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে ‘জোট নিরপেক্ষতার’ নীতি অনুসরণ করে এসেছে। ২০১৭ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগদান দীর্ঘদিনের সেই পরীক্ষিত নীতি থেকে একটি বিপজ্জনক পদস্খলন। সৌদি সামরিক জোটে যোগদান দেশের আন্তর্জাতিক নীতি সম্পর্কে সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনারও বরখেলাপ। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আঠারো’শ সেনা সদস্য সৌদি-ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিদ্ধস্ত এলাকায় মাইন অপসারণের দায়িত্ব নিবে। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ চারজন সেনা কর্মকর্তা সৌদি আরবের ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশন (আইএমসিটিসি)-তে যোগ দিবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদানের ঘটনা হলো মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননাকর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-ধারার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ-বিভাজন মার্কিন-সৌদি লবিতে নিজেকে এভাবে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ তাতে নিজেকে জড়িয়ে ফেললো। যা জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, জোট নিরপেক্ষ, প্রগতিশীল পররাষ্ট্র নীতির ধারায় দেশ পরিচালনার স্বার্থে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সৌদি সামরিক জোট থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে এ লক্ষ্যে সোচ্চার হওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দ সব দেশপ্রেমিক, প্রগতিবাদী শক্তি ও আপামর জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..