Revolutionary democratic transformation towards socialism

কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় কমরেড সেলিম- জামানত বাড়ালে সিপিবি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা ভেবে দেখবে

আজ পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুইদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির সভার সমাপ্তি দিনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নির্বাচন কমিশনের প্রতি উপরোক্ত হুশিয়ারি প্রদান করেন। দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনাকালে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, নিবন্ধিত তিনটি বাম দল সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির যৌথ প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাতকালে তিনি নিশ্চিত করেছিলেন নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। কিন্তু আমরা সংবাদ মাধ্যমে দেখছি, নির্বাচন কমিশন বর্তমান জামানত ২০ হাজারকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)’র খসড়া তৈরি করেছে। তিনি বলেন, আমরা তিন বাম দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে বিদ্যমান জামানত ২০ হাজার থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করা, ভোটার তালিকার সিডি ক্রয় বাধ্যতামূলক না করা, করারোপযোগ্য আয়ের নীচের প্রার্থীদের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক না করা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়ন জমা গ্রহণের ব্যবস্থা করাসহ ১৮ দফা সুপারিশ করা হয়। তিনি আরো বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছিলেন জামানত বাড়ানোর কোন চিন্তা নেই। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশন তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করে জামানত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা হুশিয়ারি দিয়ে বলছি, জামানতসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যোগ্য কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল রাজনৈতিক কর্মীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাধা সৃষ্টি করলে সিপিবি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা ভেবে দেখবে। তিনি বলেন `লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ মানে আওয়ামী লীগ, বিএনপিকে সমান সুযোগ প্রদান নয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তখনই নিশ্চিত হবে যখন সকল ভোটারদের ভোটে দাঁড়ানোর এবং ভোট দানের অধিকার সুনিশ্চিত হবে। কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত করে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রচিত হবে না। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে ক্ষমতার লড়াই চলছে শাসক শ্রেণীর দুই দল এবং তাদের অনুসারী জোটের মধ্যে। শাসক দল রাষ্ট্র চালতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ব্যাংকে রক্ষিত জনগণের আমনত লুট করে নিচ্ছে শাসক দলের নেতা-কর্মীরা এবং তাদের প্রশ্রয়ে থাকা লুটেরা ধনিকরা। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতিবাজ আমলা আর সরকারি দল ও জোটের নেতা-কর্মীরা। মন্ত্রীরা নিজেরাই স্বীকার করছেন তারা দুর্নীতিগ্রস্থ। তিনি বলেন ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়ার অঙ্গীকার করে এখন বলছেন কেজি প্রতি ৪০ টাকা হওয়া উচিত চালের দাম। রেল ও সড়কসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। লুট, দুর্নীতি আর দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণকে স্বর্বস্বান্ত করে নিজেদের রক্ষার জন্য ৫৭ ধারার পরিবর্তে আরো অগণতান্ত্রিক, সংবিধান পরিপন্থী, তথ্য অধিকার আইন বিরোধী নতুন কালা কানুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগী হয়েছে। দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, আমলাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য এটি এক ধরনের `ইনডেমনিটি’। তিনি আরো বলেন, সরকারের শিক্ষামন্ত্রী দেশে-বিদেশে শিক্ষা বিস্তারের তথাকথিত কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার গ্রহণ করছেন কিন্তু স্কুল থেকে শুরু করে এমন কোন পরীক্ষা নেই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে না। শিক্ষা মানের ক্রমাবনতি, পাঠ্য পুস্তক সাম্প্রদায়ীকীকরণের জন্য দায়ি বর্তমান সরকার। সিপিবি সভাপতি সেলিম আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারসহ শাসক শ্রেণির নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে নিপীড়িত মেহনতি জাগরণ ঘাটাতে হবে। পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম কেন্দ্রীয় কমিটির গত এক বছরের পর্যালোচনা উত্থাপন করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..