ঐতিহাসিক
খাপড়া ওয়ার্ড শহিদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম
বলেছেন, খাপড়া ওয়ার্ডের বীর শহীদরা সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার
বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। আজো এ লড়াই প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ,
ভারত, পাকিস্তান এই তিন দেশের জনগণের অভিন্ন শত্রু বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও
সাম্প্রদায়িকতা। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িকতাকে তার বাহন
হিসেবে গত আটাত্তর বছর ধরে গণতন্ত্র ও মানুষের সামাজিক মুক্তির বিরুদ্ধে
ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে
গণতন্ত্র ও মানুষের সামাজিক মুক্তির জন্য বর্তমানেও এই লড়াই জারি রাখতে
হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি আরো বেশি
প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, খাপড়া ওয়ার্ডের
বিপ্লবী লড়াই এ দেশের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এক
উজ্জ্বলতম পর্ব। কারাগারের অভ্যন্তরেও কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীরা
শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন, অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
সেদিনের সেই লড়াই আজও আমাদের
পথ দেখায়, উজ্জীবিত করে। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই
বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেরণা।
আজ ২৪ এপ্রিল বিকেলে পুরানা পল্টনের কমরেড
মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির
সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির
সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক
এম.এম. আকাশ, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রাগিব আহসান মুন্না ও সদস্য নিমাই
গাঙ্গুলী।
আলোচনা সভার শুরুতে খাপড়া ওয়ার্ডের শহিদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১
মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
আলোচনা
সভায় খাপড়া ওয়ার্ডের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে নেতৃবৃন্দ
বলেন, খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই আমাদের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের
ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব। শুধু ইতিহাসকে জানার জন্যই
নয়, ভবিষ্যতের দিশা পাবার জন্যও খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াইকে অনুধাবন করা জরুরি।
খাপড়া ওয়ার্ডের গৌরবোজ্জ্বল কাহিনি ও শিক্ষা সবখানে ছড়িয়ে দিতে হবে।
মানবমুক্তির লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াইয়ের ধারায়
নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। শহিদ-যোদ্ধাদের আদর্শ,
লড়াই ও আত্মত্যাগের
ধারা নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে। শহিদদের স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক-সাম্যবাদী
সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহিদদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ খাপড়া ওয়ার্ডের শহিদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং
পাঠ্যপুস্তকে খাপড়া ওয়ার্ডের বিপ্লবী কাহিনি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
এছাড়া
রাজশাহী জেলের অভ্যন্তরে খাপড়া ওয়ার্ড শহিদ স্মৃতিসৌধে সিপিবির নেতৃবৃন্দ
শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আবেদন করা হলে জেল কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দেওয়ায়
আলোচনা সভা থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
পরবর্তীতে সিপিবি
কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সিপিবি
নেতৃবৃন্দ রাজশাহী শহীদ মিনারে খাপড়া ওয়ার্ড শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের
খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্ট-রাজবন্দীদের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের
গুলিতে বন্দী অবস্থায় শহিদ হন কমিউনিস্ট পার্টির সুধীন ধর, বিজন সেন, হানিফ
শেখ, সুখেন্দু ভট্টাচার্য, দেলোয়ার হোসেন, কম্পরাম সিং ও আনোয়ার হোসেন।
আরও ৩২ জন রাজবন্দী গুরুতর আহত হন।