বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তারা বলেছেন, ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কার্যত একটি একদলীয় শাসন কায়েম হয়েছে। সমাবেশে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি, মানুষের রুটি-রুজি ও জাতীয় স্বার্থ আজ বিপন্ন। এই অবস্থায় গণআন্দোলনকে সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত করার মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির ডাকে আজ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, শুক্রবার, বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর পুরানা পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাইফুল ইসলাম সমীরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ত্রিদিব সাহা, জেলা কমিটির সদস্য আসলাম
খান, আবু তাহের বকুল, হযরত আলী, শংকর আচার্য্য, আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।
জনসভায় সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন জনগণ মেনে নেয়নি। তারা নীরব প্রতিবাদস্বরূপ ভোট বর্জন করেছে। এ দেশের মানুষ বার বার গণতন্ত্রের জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে, লড়াই করেছে।
তিনি বলেন, এরশাদ স্বৈরাচার পতনের পর অদ্যবধি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শাসকশ্রেণির রাজনৈতিক দলগুলো শহীদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। উপরন্তু বর্তমান সরকার মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে, তারা মানুষের ভাতের অধিকারও দিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, দেশ, জাতি ও জনগণ আজ জিম্মি অবস্থার শিকার। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি জনগণের বিকল্প শক্তি সমাবেশ ও ক্ষমতা কেন্দ্র গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই মানুষের মুক্তি অর্জন করতে হবে।
জনসভায় সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। তার ধারণা
ডান্ডা মেরে সকলকে ঠান্ডা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু যতদিন ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হয় ততদিন পর্যন্ত এই দেশের মুক্তিকামী মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই জনসভা থেকে আমরা আন্দোলনের নতুন ডাক দিতে চাই। অনেকেই ভাবছেন সব শেষ হয়ে গেছে। আইয়ুব খানের মহাসমারোহে উন্নয়নের দশক উদযাপন শেষ হওয়ার আগে তার পতন হয়েছিল। স্বৈরশাসনের অবসান যখন হয় মহাপরাক্রমশালী শাসকের মসনদও বালির বাঁধের মতো মুহূর্তে ভেসে যায়।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দুঃখজনক হলেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে একসময় যাদের সহযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছি, আজ স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়ে তাদেরই কারো বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে গণআন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও মানুষের রুটি-রুজির অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জনসভায় সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার
বলেন, বিদেশি ঋণনির্ভর মেগাপ্রকল্প ও মেগা লুটপাট, বিপুল অর্থ পাচারের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি আজ চরম সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। বাজার নৈরাজ্যকে নীতিগত সুবিধা দিয়ে সরকার মানুষের মুখের অন্ন কেড়ে নিয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে একদলীয় শাসন কায়েম করতে গিয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থ নিলামে তোলা হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের সামনে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রুটি-রুজির অধিকার সংহত করা ভিন্ন অন্য কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, লুটেরা গোষ্ঠী ও সমাজপতিদের নেতৃত্বে ভারত রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য আজ ধ্বংস হতে বসেছে। অথচ তারাই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতাসীন থাকার সর্বাত্মক মদদ প্রদান করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারত রাষ্ট্রের নীতি যতটা না রাজনৈতিক তার অধিক সামরিক। তিনি দেশের জনসাধারণের উদ্দেশ্যে নীতিনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক অবস্থান থেকে রাজনৈতিক সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।