বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স আজ ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ এক বিবৃতিতে চালসহ নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাজারের ওপর মুনাফাশিকারি লুটেরাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ খর্ব না করা গেলে এবং ‘অবাধ খোলাবাজার অর্থনীতির’ দর্শন ও ‘মার্কেট ফান্ডামেন্টালিজম’ এর নীতি থেকে বের হয়ে না আসতে পারলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এরপরও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য, বিশেষত দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের জন্য স্থায়ী রেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এই দরিদ্র মানুষদের জন্য রেশনে কন্ট্রোল দামে চাল, গম, তেল, ডাল, চিনি এবং প্রয়োজনমতো অন্যান্য অত্যাবশক পণ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রদান করাসহ পর্যায়ক্রমে পণ্যের সংখ্য বাড়াতে হবে।
সারাদেশে ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করা এবং ক্রেতা-সমবায় সমিতি সংগঠিত করে দেশব্যাপী তার বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে উৎপাদক কৃষক ও ক্রেতাসাধারণকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সহায়তায় একদিকে ‘ভোক্তা সমবায় সমিতি’ এবং অন্যদিকে ‘উৎপাদক সমবায় সমিতি’ গড়ে তোলা এবং এই দুই সংস্থার মধ্যে সরাসরি সংযোগ ও লেনদেনের ব্যবস্থা করতে হবে।
দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষভাবে বিএডিসির কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে সারাদেশে সার, বীজ, কীটনাশক, বিদ্যুৎ সেচ যন্ত্রপাতিসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে এবং সময়মতো খোদ কৃষকের কাছে সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমে আসে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পণ্য পরিবহনে দুর্নীতি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং একইসঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনসহ হাটবাজারে ইজারাদারি ব্যবস্থা ও তোলা আদায়ের অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।
লক্ষ্য ও দুর্নীতিমুক্তভাবে টিসিবির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে অত্যাবশ্যক পণ্যসামগ্রীর আমদানি, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে খাদ্যদ্রব্যসহ অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে।
পাইকারি ও খোলাবাজারে পণ্যমূল্য তদারকির জন্য ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ (Price Regulatory Authority) প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি উপযুক্ত ‘ক্রেতাস্বার্থ সংরক্ষণ আইন’ প্রণয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওপেন মার্কেট সেল, মার্কেটিং অপারেশন, টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) প্রভৃতি কর্মসূচিসহ যে কোনো আপৎকালীন দ্রুততার সঙ্গে ‘ঝটিকা কার্যক্রম’ পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা, ফ্যমিলি কার্ডের সংখ্য বাড়ানো ও দূর্নীতি স্বজনপ্রীতি বন্ধ করতে হবে।
পৃথক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে গ্রাম-শহরসহ সারাদেশে সাশ্রয়ী, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ‘গণবণ্টন ব্যবস্থা’ (Public Distribution System) চালু করতে হবে।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে রাষ্ট্রের প্রভাব-সক্ষমতা সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে এ বাজারগুলোতে প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের উপযুক্ত ব্যবস্থা ও কার্যক্রম চালু করতে হবে।