Revolutionary democratic transformation towards socialism

সরকারের একতরফা নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন জোরদার করুন


সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন, ঘোষিত তফসিল বাতিল ও একতরফা নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন জোরদার ও দমন-নির্যাতন রুখে দাঁড়ানোর দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট আজ ২৫ নভেম্বর ২০২৩, শনিবার রাজধানী ঢাকার পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের নামে যে সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে তা বাংলার জনগণ হতে দেবে না। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার ’১৪ ও ’১৮ সালের নির্বাচনের মতো আরেকটি যেনতেন নির্বাচন করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করে লুটপাট অব্যাহত রাখতে চায়। নেতৃবৃন্দ সরকারের তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল বাতিল করে নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনের দাবি জানান। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আজ রংপুরে বাম জোটের মিছিলে পুলিশ হামলার নিন্দা জানান।

বাম গণতান্ত্রিক জোট এর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট

পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ-এর সহ সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার এত উন্নয়নের কথা বলে, মেগা প্রকল্পের কথা বলে তাহলে তাদের নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভয় কিসের? স্বাধীনতার পর থেকে কোন সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী সরকারের অধীনে বিগত দুটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। নেতৃবৃন্দ জনগণের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারকে অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দলনিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের জোর দাবি জানান। 

সমাবেশে

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হামলা, নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাম জোটের মিছিল, সমাবেশে হামলা, নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পুলিশী হয়রানি বন্ধ ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সভা, সমাবেশ, মিছিল যাতে রাজনৈতিক দলগুলো করতে পারে তার দাবি করেন।

সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ বলেন, অবৈধ, একতরফা ও প্রহসনের তফসিল বাতিল করা না হলে আগামী ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে কালো পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশ নেতৃবৃন্দ বলেন, রংপুরে আজ বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে পুলিশ হামলা চালায়। হামলায় বাসদ আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক কাফি সরকার, ছাত্রনেতা সাজু বাসফোর, রিনা মূর্মূসহ অনেকেই আহত হন। নেতৃবৃন্দ হামলাকারী পুলিশের বিচার দাবি করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..