জেরুজালেমের আল আক্বসা মসজিদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইসরাইলী সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে এবং জায়নবাদী বর্বরতা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানে আজ ৬ এপ্রিল ২০২৩, বৃহস্পতিবার, বিকেল ৪টায় ঢাকার পুরানা পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে প্যালেস্টাইন ভূখণ্ডে ইসরাইলী সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সিপিবি’র সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন ও এ্যাড. হাসান তারিক চৌধুরী। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাগীব আহসান মুন্না।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রতিদিন প্যালেস্টাইনীদেরকে তাদের বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার দূরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ঠ জায়নবাদী চক্র এ হামলা ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।
সমাবেশে
নেতৃবৃন্দ বিশ্ববাসীকে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রমজান মাসে গত দুই রাত ধরে ইসরাইলী সামরিক বাহিনী জেরুজালেমের আল আক্বসা মসজিদে অভিযান পরিচালনা করছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসরাইলের চলমান জায়নবাদী আগ্রাসন তীব্রতর এবং অধিক মাত্রায় আক্রমনাত্মক রূপ লাভ করেছে। যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সশস্ত্র সেনারা মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রার্থনারত মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। তারা বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করেছে, ‘রাবার কোটেড স্টিল’ বুলেট ছোড়া হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে, অবরুদ্ধ অবস্থায় তাদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বহু মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। জায়নবাদী সেনারা ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে একই সাথে দুটি ফিলিস্তিনি নগরেও সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে ইসরায়েলের এ সকল মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করতে হবে। তাদের এই বর্বরতা ও অপরাধের বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীর শান্তিকামী
বিবেক সম্পন্ন মানুষ নিন্দা ও প্রতিবাদে সোচ্চার আছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্যালেস্টাইনের জনগণ সমর্থন দিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষও প্যালেস্টাইনের নিপীড়িত বীর জনতার পাশে সর্বদা ছিলো, আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের দাবিতে মুক্তিকামী জনগণের সংগ্রামকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।
নেতৃবৃন্দ ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর চলমান সামরিক আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে এই ন্যাক্কারজনক হামলার আনুষ্ঠানিক নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে হবে। একইসঙ্গে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ফিলিস্তিনের ন্যায়সংগত দাবির স্বপক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশ থেকে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে ইসরাইলী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।