Revolutionary democratic transformation towards socialism

৯ হাজার কোটি টাকার ইভিএম প্রকল্প মানুষের ট্যাক্সের টাকার অপচয়- এই প্রকল্প বাতিল করতে হবে

বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছে পূরণে কাজ করতে গিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে, সরকারের নীল নক্সা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংকট আরো গভীর করছে।

রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা সত্বেও প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা দিয়ে ইভিএম মেশিন কেনা, রাজনৈতিক সভা সমাবেশে সরকারি দলের ক্যাডার-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা-মামলার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার পল্টন মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এই অভিযোগ করেন।
 
৯ হাজার কোটি টাকার ইভিএম প্রকল্প বাতিল, নির্দলীয় তদারকী সরকারের অধীনে নির্বাচন, দমন-পীড়ন, মামলা, বিরোধী মতামত দমন বন্ধ, লুটের টাকা উদ্ধার ও দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের বিচার, নিত্যপণ্যের দাম কমাও, মানুষ বাঁচাও-দাবিতে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের সামজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাক সবুজ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম।

তারা বলেন, দেশের মানুষ এমন একটা পরিবেশ চায় যেখানে তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ভোটারদের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। আমরা দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন চাই না।

বক্তারা নির্বাচনের সময় সংসদ বাতিল ও সরকারের পদত্যাগ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে তোড়জোড় করছে, একটা পূর্ব নির্ধারিত ফলাফলের জন্য নির্বাচনের আনুষাঙ্গিকতা করতে চাইছে। বক্তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের আয়োজনকে রুখে দাঁড়াতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন নির্বাচন কমিশন জনগণকে প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে। জনগণ এর জবাব দেবে।

দেশের মানুষ ইভিএম চাইছে না, কারণ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এর আগে জনগণের টাকায় কেনা ২৮ হাজার ইভিএম নষ্ট হয়ে পড়ে আছে কিন্তু তারপরও সরকারের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নয় হাজার কোটি টাকা খরচের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বক্তারা বলেন, সরকারের চরিত্রে গণতান্ত্রিক চেহারার লেশ মাত্র নেই। গায়ের জোরে ক্ষমতা ধরে রাখতে পাখির মতো মানুষ খুন করছে।  মানুষের কথা বলার সাংবিধানিক অধিকার পুলিশের দয়ার উপর ছেড়ে দিয়েছে। দেশে আইনের শাসন নেই- আওয়ামী শাসন চলছে।

ইডেন কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ এমন কোনো অপরাধ নেই যা করছে না, কিন্তু আইনের আওতায় না আনার একমাত্র কারণ তারা আওয়ামী শাসনের সহযোগী। বক্তারা ইডেন কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি, সেক্রেটারিসহ অপরাধীদের গ্রেফতার দাবি করে বলেন, শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনপির আমলের নির্যাতনের ধারাবাহিকতা কেবল রক্ষা করছে না তাকে আরো নিষ্ঠুর করে তুলেছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন দুর্গাপূজার জন্য বানানো প্রতিমা ভাংচুরের খবর আসছে। নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আক্রমণ না আসে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্ভিঘ্নে ও নির্ভয়ে সম্পন্ন করতে পারে তার জন্য সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..