Revolutionary democratic transformation towards socialism

“মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কার্ল মার্ক্স পথপ্রদর্শক”


আজ ৬ মে, শুক্রবার বিকাল চারটায় মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি’র) তত্ত্ব, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে ‘কার্ল মার্ক্স ও বাংলার গ্রাম সমাজ’ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড শাহিন রহমান। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য লাকী আক্তার।

মুক্ত আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে আলোচনা করেন, সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স,  ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি কমরেড শামসুজ্জামান হীরা, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড আনোয়ার হোসেন রেজা, ঢাকা দক্ষিণের নেতা কমরেড শংকর আচার্য, কমরেড মুরশিকুল শিমুল, কমরেড স্বপন বিশ্বাস, ঢাকা উত্তরের নেতা কমরেড তালাত তাহজীব, ঢাকা দক্ষিণের নেতা কমরেড কল্লোল বণিক।

সভাপতির বক্তব্যে কমরেড শাহিন রহমান বলেন, ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানবমুক্তির সংগ্রামে মহামতি কার্ল মার্ক্স ছিলেন উজ্জ্বল বাতিঘর এবং পথপ্রদর্শক। দর্শন, অর্থশাস্ত্র এবং সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিপ্লবী চিন্তার প্রয়োগ ঘটানোর পাশাপাশি তিনি সমাজপ্রগতির বিপ্লবী সংগ্রামকে দিয়েছেন বিপ্লবী পথনির্দেশনা। দর্শনের জটিল জগতকে তিনি মানুষের বিপ্লবী কর্মকান্ডের উপযোগী করে গড়ে তুলেছিলেন। শ্রমিক শ্রেণির লড়াইকে অগ্রসর করার মধ্য দিয়ে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল মানুষের মুক্তির যে দিশা দেখিয়েছেন কার্ল মার্ক্স, আজো তা দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষকে লড়াইয়ের দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।’

কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম  বলেন, ‘কমিউনিস্টদের সত্যের অনুসন্ধান করতে হবে। জ্ঞানের একটা বৈশ্বিক আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। কার্ল মার্ক্সকে আমাদের জানতে হবে, তার সত্যকে বের করার পদ্ধতির মধ্যে দেখতে

হবে। মার্ক্স মেহনতি মানুষের সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি, শ্রেণিবিভক্ত সমাজে শ্রমিকশ্রেণির হাতে তাদের মতাদর্শিক হাতিয়ার তুলে দিয়েছেন। প্রচলিত সমাজব্যবস্থার বিশ্লেষণ, বিপ্লবী তত্ত্ব নির্মাণ, দর্শনকে মানুষের জন্য কাজে লাগানোর মধ্য দিয়ে মার্কস দুনিয়ার একজন একজন শ্রেষ্ঠ চিন্তক ও দার্শনিক হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত হয়েছেন।’

কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘কার্ল মার্ক্সের বিরোধিতাকারীরাও তার অবদান অস্বীকার করতে পারেনি। নানা কৌশলে তারা মার্ক্সবাদকে আক্রমণ করলেও, একজন চিন্তক ও দার্শনিক হিসেবে তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। নানা অপপ্রচার স্বত্ত্বেও সারা দুনিয়ার মানুষ শ্রেষ্ঠ চিন্তক হিসেবে কার্ল মার্ক্সকেই নির্বাচিত করেছেন।’
লিখিত  বক্তব্যে লাকী আক্তার বলেন, ‘ভারত বর্ষ নিয়ে পড়াশোনা কিংবা লেখার সময় মার্ক্সের চিন্তায় একটাই মূল প্রশ্ন ছিল ভারতীয় সমাজের ঐতিহাসিক অগ্রগতি সম্ভাবনা কি? কোন পথে সে অগ্রগতি সম্ভব? সে পথে বাধা কোথায়? সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল সময়ের পরিক্রমায় মার্ক্সের ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক অনুপ্রবেশ সম্পর্কে মতামত পুরোটাই পাল্টে গেছে। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এর ক্ষেত্রে  মার্ক্সের এই মতামত এবং চিন্তা পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, ‘কার্ল মার্ক্স তার জন্মের দুইশ তিন বছর পরেও আজও ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। পুঁজিবাদ আজ যখন মুক্তবাজার অর্থনীতি, উদারনীতিবাদ, বিশ্বায়নের নামে নতুন নতুন চেহারায় তাদের শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে, সেসময় মার্ক্স আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন। তার বিপ্লবী জীবন ও তার দেখানো পথ থেকে শিক্ষা নিয়ে শোষণহীন ‘মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে অগ্রসর করার মধ্য দিয়ে কার্ল মার্ক্সের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হবে।’



Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..