Revolutionary democratic transformation towards socialism

অবিলম্বে গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিন

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি’র সভাপতি কমরেড মুজহাদিুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা শিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড ফখরুদ্দিন কবীর আতিক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি কমরেড হামিদুল হক আজ ২৪ নভেম্বর ২০২১ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে গত কয়েকদিন ধরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অবিলম্বে গণপরিবহনে (বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান) ছাত্র-ছাত্রীদের হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ঢাকা কলেজের সরকারি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের হেলমেট বাহিনীর সন্ত্রাস দেশবাসী প্রত্যক্ষ করলেও কারো বিচার হয়নি। শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আন্দোলনে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশেও ইতিপূর্বে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালু ছিল। উল্লেখ্য, ৬৯ সালের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফার অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিজেলসহ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে জনজীবনের প্রতিক্ষেত্রে অবর্ণনীয় মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে সরকার। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়াও অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে। তেলের দাম বেড়েছে ২৩%, বাস ভাড়া বেড়েছে ২৭%। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে অথচ এখন আবার দাম কমতে থাকলেও দেশে ডিজেলের দাম কমানোর কোনো লক্ষণ নাই। পরিবহন ভাড়াও কমানোর কথা শোনা যাচ্ছে না। দেশে পরিবহন সেক্টরে এক চরম নৈরাজ্য নেমে এসেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার মুনাফা করছে। আর, বাস ভাড়া বাড়িয়ে পরিবহন মালিকেরা লাভ করছে। এ যেন চোরে চোরে মাশতুতো ভাই। মাঝখানে জনগণের চিড়ে চেপ্টা অবস্থা। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাস ভাড়া বাড়িয়ে মালিক মুনাফা লুটছে, অন্যদিকে দরিদ্র পরিবহন শ্রমিকদেরকে যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সংঘাতে লিপ্ত করেছে।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে সড়ক পরিবহন সচিবের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সড়ক পরিবহন সচিব কি করে বলতে পারেন ‘বেসরকারি মালিকদের উপর অর্ধেক ভাড়ার চাপ দেয়া সম্ভব নয়, চাপ দিলে মালিকেরা বাস বন্ধ করে দিতে পারে।’ এর মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন হওয়া সচিব ছাত্র জনতার স্বার্থ রক্ষা না করে মুষ্টিমেয় মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহনের ভাড়া কমানো এবং সকল গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে সকল শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের মাধ্যমে দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা এবং জনগণকে ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন ও অংশ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন

Login to comment..