বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ আজ এক বিবৃতিতে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বে ৩৪ দেশের ‘ইসলামিক সামরিক জোটে’ বাংলাদেশের যোগদানের সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেছেন যে, বাংলাদেশ তার জন্মলগ্ন থেকে জোট-নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করছে। ধর্মনিরপেক্ষতা এ দেশের অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কর্তৃক তার দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত জোট-নিরপেক্ষতার নীতি আকস্মিভাবে পরিবর্তন করে একটি ‘ইসলামিক সামরিক জোটে’ যোগদান করার বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কোনোভাবেই তা মেনে নেওয়া যায় না। এত বড় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনগণ অথবা দেশের রাজনৈতিক শক্তিসমূহের সাথে তো দূরের কথা, জাতীয় সংসদেও এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র আলোচনা করা হয়নি। সবাইকে হতবাক করে দিয়ে এই সিদ্ধান্ত পত্রিকার মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করা হয়েছে মাত্র।
অধিকন্তু, সৌদি আরব ‘ইসলামি স্টেট’ আলকায়দা, তালেবানসহ বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠনকে বিপুল অর্থ সহায়তা প্রদান করে থাকে ও নানাভাবে তাদেরকে মদদ দিয়ে থাকে বলে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গি শক্তির আশ্রয়দাতা জামায়াত-ই-ইসলামসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠান যে সৌদি আরবের প্রশ্রয় ও সহায়তায় কাজ করছে, সে কথাও সুবিদিত। সৌদি আরবের নিকট থেকে সন্ত্রাসী জঙ্গি দল জামায়াতকে দমনের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় না করেই, সৌদি নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই সামরিক জোট যে প্রকৃতপক্ষে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনোই কাজে আসবে না-তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সরাসরি অবস্থান গ্রহণের বিষয়টিও সুবিদিত। একথা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, এই সামরিক জোট গঠন করা হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার নির্দেশে, তার ভূ-রাজনৈতিক ও আধিপত্যবাদী স্বার্থ রক্ষার্থে। আমেরিকা ও সৌদি স্বার্থ রক্ষার্থে সামরিক জোটে শরিক হওয়ার বাংলাদেশ সংঘাতে জড়িয়ে পরার বিপদের মুখে পতিত হবে। এসব কথা জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার কি কারণে ও কার স্বার্থে সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘ইসলামিক সামরিক জোটে’ যোগদানের বিষয়ে সম্মত হয়েছে, দেশবাসী তা জানতে চায়।
অবিলম্বে সৌদি নেতৃত্বাধীন প্রবলভাবে প্রশ্নবিদ্ধ উক্ত সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে এসে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী জঙ্গি শক্তির বিরুদ্ধে দেশে ও বিশ্বে কার্যকর অর্থপূর্ণ ও দৃঢ় সগ্রাম পরিচালনার জন্য নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা প্রেরক
চন্দন সিদ্ধান্ত
কেন্দ্রীয় দপ্তর বিভাগ
Login to comment..