বাংলাদেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নির্ধারণে জনস্বার্থ না দেখে ব্যবসায়িদের স্বার্থ দেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে দাম পুনঃনির্ধারণ ও খুচরা বাজারে প্রকৃত দাম কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
এ প্রসঙ্গে আজ ১৭ এপ্রিল ২০২১, প্রদত্ত এক বিবৃতিতে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণে বিইআরসি দায়িত্ব পালন না করায় ব্যবসায়ীরা দাম নির্ধারণ করছিল। সম্প্রতি বিইআরসি এই দাম নির্ধারণ করতে গণশুনানী করেছে। অথচ দাম নির্ধারণে ঐ গণশুনানীতে সিপিবিসহ বিভিন্ন জনসংগঠনের প্রতিনিধিরা যে মতামত দিয়েছিলেন, জনস্বার্থের সেইসব মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। এমনকি যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বাজারে তার থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছে, দেশের মানুষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণশুনানীতে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮৬৬ টাকা প্রস্তাব করেছিল। আমরা যুক্তি তথ্য দিয়ে ঐ দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলেছিলাম। অথচ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি’র দাম কমতে থাকলেও ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হলো ৯৭৫ টাকা। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এই দাম যুক্তিসংগতভাবে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।’
বিবৃতিতে, মানসম্পন্ন সিলিন্ডারের গায়ে খুচরা মূল্য লেখা ও নির্ধারিত দামে যাতে গ্রাহকরা গ্যাস কিনতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সরকারি ১২.৫ কেজি’র সিলিন্ডার গ্যাস, নির্ধারিত ৫৯১ টাকায় দেশের কম আয় এলাকার নিম্নবিত্তদের কাছে বিক্রি’র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দাবি জানান হয়। বিবৃতিতে সরকারি উদ্যোগে সিলিন্ডার গ্যাসে উৎপাদন বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে গ্রাহকরা নির্ধারিত দামে, নির্দিষ্ট মাপে ও নিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার না কিনতে পারলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে যাতে অভিযোগ করতে পারে এজন্য ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠনেরও দাবি জানান হয়।
বিবৃতিতে দেশের গ্যাসের উৎপাদন, সরবরাহ বাড়ানো ও কম দামে, কম খরচে, ভ্যাট কমিয়ে এলপিজি আমদানি করে ঘরে ঘরে ও শিল্প-কারখানায় কম দামে গ্যাস সরবরাহ এবং এক্ষেত্রে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করারও দাবি জানানো হয়।