যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী কর্তৃক মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও পরিবারের ধর্মীয় অধিকার হরণ চেষ্টা প্রতিহত করা হবে

Posted: 25 অক্টোবর, 2026

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন এবং তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁর দাফনে বাধা প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। 

একজন মৃত মানুষের শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে এমন উস্কানিমূলক পরিস্থিতি যারা সৃষ্টি করেছে তাদের উদ্দেশ্য সৎ নয় বলে মনে করে সিপিবি। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে ।

আজ ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ছিলেন ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরিচালিত মামলার অভিযোগকারী ও সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মৃত্যুর পর মর্যাদাপূর্ণ দাফন নিয়ে বাধা সৃষ্টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সিপিবি’র বিবৃতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় জড়িত জামায়াতে ইসলামীর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদাকে অবজ্ঞা করে সীমালঙ্ঘন এবং বাড়াবাড়ি করার পরিণতি ভালো হবে না। বিবৃতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের ভিত্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা জাতীয় দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বিষয়ে সকল কিছু নির্ধারিত হবে তথ্যপ্রমাণ, আইন ও যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক চাপ সৃষ্টি করবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেবে কিংবা পরিবারের স্বাভাবিক ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেবে, তা সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি ভূমিকা পালন করেছে, প্রশাসন যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করেছে কি না এবং পরিবারের সদস্যদের কেন এমন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। 

সিপিবির নেতৃবৃন্দ মানিক পশারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মর্যাদাপূর্ণ শেষ বিদায় নিশ্চিত করা এবং স্বজনদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের মৌলিক দায়িত্ব। গুটিকয়েক স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ছাড়া সকল দেশপ্রেমিক মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর পরিবারের পাশে আছে।