বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়, এটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর নগ্ন আঘাত। রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের কারণে কোনো দল বা সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অধিকার কারও নেই। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে দমন করা যাবে না।
আজ ২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে ও বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জয়দেব ভট্টাচার্যের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, বাসদ (মাহবুব)’র কেন্দ্রীয় নেতা মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গতকাল ২৬ অক্টোবর রাত ১০টায় লাঠিশোটা নিয়ে একদল উগ্র ও উশৃংখল ব্যক্তি নিজেদের সরকার দলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তিভবনের সামনে জড়ো হয়ে সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছে দাবি করে প্রধান ফটক ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকতে উদ্যত হয়। এ সময় সিপিবি নেতাকর্মীরা বাধা দিলে তারা সহিংসতা শুরু করে। হামলাকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে কয়েকজন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিপিবি কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার পরেও হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে এবং কথিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যদের তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানাতে থাকে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে এবং পার্টির বহু নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও মুক্তিভবন ছিল আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই মুক্তিভবনে হামলার ঘটনা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভয়ভীতিমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলা, হুমকি ও শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে বাধাগ্রস্ত করছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব রাজনৈতিক দলের নিরাপদে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের শনাক্তকরণ ও বিচার এবং রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জনগনের প্রতি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার, বায়তুল মোকারম দক্ষিণ গেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে।