‘বিশ্বব্যাপী ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্ফালনের বিপরীতে বামপন্থাই আশার আলো’

Posted: 12 মে, 2026

বিশিষ্ট মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, দেশের শীর্ষ বামপন্থি রাজনীতিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, কমরেড রনো ছিলেন একজন তীক্ষ্ণ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন বাস্তববাদী মানুষ। সে কারণেই তিনি আমৃত্যু ছিলেন একজন আশাবাদী রাজনীতিবিদ। তিনি রাজনৈতিকভাবে বামপন্থার অপরিহার্যতা নিয়ে কখনো দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেননি। সারা বিশ্বে উগ্র ডানপন্থী ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির আস্ফালন চলছে। এই অবস্থায় আশার আলোর মতো বামপন্থাই মানুষের সামনে বিকল্প হিসেবে আজ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। এমন এক যুগসন্ধিকালে কমরেড রনো বেঁচে থাকলে সমাজ অত্যন্ত উপকৃত হতো।

কমরেড সেলিম আরো বলেন, একই আদর্শে আমরা লড়াই শুরু করেছিলাম। পাকিস্তান আমলে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে হায়দার আকবর খান রনো বিরাট সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন। উত্তাল ষাটের দশক থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি একজন লড়াকু নেতা হিসেবে ছিলেন। তিনি আগামীতেও বামপন্থিদের লড়াইয়ে প্রেরণা হয়ে থাকবেন।

আজ ১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, বিকেল ৫টায়, পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মিলনায়তনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মিহির ঘোষ, প্রগতি লেখক সংঘের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন প্রমুখ। স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড জলি তালুকদার।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, আজীবন বিপ্লবী হিসেবে নিজেকে কর্মে নিয়োজিত রেখেছিলেন কমরেড হায়দার আকবর খান রনো। তিনি একজন সজ্জন আর বিনয়ী রাজনীতিবিদ ছিলেন। কবিতার প্রতি এবং রবীন্দ্রনাথের প্রতি তার ছিলো বিশাল অনুরাগ। তিনি তার বক্তব্যে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়কে খুব সহজভাবে বলতে পারতেন। জনগণের কাছে মার্কসবাদকে পৌছে দিতে এবং লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করতে তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত গণমানুষের জন্য লিখে গেছেন। ইতিহাসের কাছে তার এই অবদান অমূল্য।  

সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, বামপন্থি রাজনীতিক এবং সংগ্রামী নেতা হিসেবে কমরেড রনো জনমানুষের কাছে সুপরিচিত ছিলেন। তার ‘উত্তাল ষাটের দশক’ বইটি সে সময়ের মুক্তি সংগ্রামের প্রামাণ্য দলিল। তার লেখার মধ্য দিয়ে ষাটের দশককে পাঠ করা যায়। ইতিহাসে গণমানুষের অবদান ধরে রাখতে হায়দার আকবর খান রনোর গ্রন্থগুলো অসামান্য ভূমিকা রেখে যাবে। তিনি আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী রাজনৈতিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি নিজের নীতি-আদর্শে ছিলেন অবিচল। আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য কমরেড হায়দার আকবর রনো অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।