আজ ১৪ মার্চ বিকাল ৩টায় সেগুনবাগিচায় অবস্থিত রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে “আমেরিকার সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল এর সভাপতিত্বে এবং সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লূনা নূরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিডি ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম. এম. আকাশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং কলামিস্ট ও লেখক আবু তাহের খান।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা এই চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করবো। বাংলাদেশের বিরোধী এই চুক্তি করেছে তাদেরকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় মূখ্য আলোচক সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে আমেরিকার প্রায় ১২০০ কোটি টাকা মওকুফ করা হয়েছে, অন্যদিকে ১৫ শতাংশের জায়গায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা শুল্ক আদায়ের কথা ছিল, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। চুক্তির ভাষা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় “shall” শব্দটি বাংলাদেশ অংশে ১৩১ বার ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মাত্র ৬ বার। এর মাধ্যমেই বোঝা যায় চুক্তির মধ্যে কতটা অসমতা ও অন্যায্যতা রয়েছে।
তিনি বলেন, এতে নন-ডিসক্লোজার ক্লজ রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা এখানে এসে কাজ করে চুক্তির ভাষা তৈরি করেছে, যেখানে জবরদস্তিমূলক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু শুল্ক নয়—এর বাইরেও বিভিন্ন খাতে আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকিউরমেন্টের ক্ষেত্রেও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টন পণ্য কিনতে হবে। ফলে আমরা আর সস্তা উৎস থেকে পণ্য কিনতে পারব না। একদিকে সরকার ভর্তুকি দিতে পারবে না, অন্যদিকে সস্তা বাজার থেকেও কেনা যাবে না। ডিফেন্স প্রকিউরমেন্টের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র থেকেই কিনতে হবে এবং ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা হয়েছে। ফলে আমরা স্বাধীনভাবে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। চুক্তি ভঙ্গ করলে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, সেটিও মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, পরে তা ১০ শতাংশে নামানো হয়েছে ফলে এর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী এই অন্যায্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এই অন্যায্য চুক্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা (রি-ভিজিট) করতে হবে। কারণ এটি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
অধ্যাপক এম. এম. আকাশ বলেন, প্রথমত এই চুক্তিটি অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো এতে কার স্বার্থ রক্ষা হলো? যদি গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার কথা বলা হয়, তাহলে এখানে স্বচ্ছতা কোথায় ছিল? পুরো প্রক্রিয়ায় মাত্র তিন-চারজন মানুষ যুক্ত ছিলেন। তাঁর মতে, এই চুক্তির চেয়ে বেশি বৈষম্যমূলক চুক্তি আর হতে পারে না।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এমন কিছুই অসম্ভব নয়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে, যেন কেবল আমেরিকানরাই মানুষ—বাকি পৃথিবীর মানুষ নয়। এই চুক্তির মধ্যস্থতার মাধ্যমেই বিএনপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই অবস্থান নেবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন ৩১ দফার কথা বলছে, কিন্তু ইশতেহার সাধারণত ভোট পাওয়ার জন্যই লেখা হয়; নির্বাচনে জয়ের পর আর ভোটের প্রয়োজন পড়ে না।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য তাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। সে জন্য তারা শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করে। তবে এর প্রকৃত লক্ষ্য আমদানি কমানো নয়; বরং তাদের নিজস্ব পণ্য আমাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা। ১৮ কোটি মানুষের একটি বড় বাজার তারা পেয়ে গেছে। এখানে তারা তুলা বিক্রি করবে, প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য বিক্রি করবে, আমাদের বিমান কিনতে হবে, এমনকি নিরাপত্তা জোটের অবস্থানও পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) পরিবর্তন এলে আমাদের উদ্ভাবন (ইনোভেশন) বাড়াতে হবে—বিশেষ করে আইসিটি ও রোবোটিকস খাতে। একই সঙ্গে চীনের আধিপত্য কমানোর কৌশলও এতে জড়িত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে তথ্য গোপন রাখার সুযোগ থাকবে না, ভর্তুকি দেওয়াও কঠিন হয়ে যাবে। এতে দেশকে আবার এক ধরনের ঔপনিবেশিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক আবু তাহের খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশে তেমন কোনো বিস্তৃত আলোচনা হচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে জাপানের সঙ্গে নাকি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে কিন্তু বাস্তবে এটি এক ধরনের প্রতারণা। তিনি বলেন, ৭৩৭৯টি পণ্যের রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় অনেকেই খুশি হচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের এমন কোনো শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠেনি যাতে এত পণ্য রপ্তানি করার সক্ষমতা থাকে। অর্থাৎ রপ্তানির সামর্থ্যই নেই। উল্টো আমরা ১০৩৯টি পণ্য আমদানির সুযোগ দিয়ে দিয়েছি। মার্কিন চুক্তির দৃষ্টান্ত দেখিয়ে এসব সুবিধা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারাই বেশি লাভবান হচ্ছে এবং আমাদের নিজস্ব স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এর প্রভাবে ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা দিতে হবে। ফলে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব আমরা হারাবো। জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে যদি রাজস্ব কমতে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় আসবে কোথা থেকে সেটি বড় প্রশ্ন।
তিনি অভিযোগ করেন, বোয়িং কিনতে জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। অথচ বোয়িং বিমান কিনতে হলে সেটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) ছাড়া কেনার কথা। কিন্তু সরকার সরাসরি কিনতে চাইলে তা স্পষ্টভাবে অন্যায্য এবং দুর্নীতি।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কিনতে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতি টনে প্রায় ৩৫ ডলার বেশি গুনতে হতে পারে। অর্থাৎ আমাদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট অঙ্কে এসব পণ্য কিনতে হবে। এতে দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়বে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন এই বিষয়টি কখনো নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব বলা হচ্ছে, আবার কখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় বলা হচ্ছে। এ ধরনের দ্বৈত অবস্থানও উদ্বেগজনক।
সবশেষে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। তাই এই চুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করে আইনি লড়াই শুরু করা উচিত।
সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যে অসম বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে তা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। জনগণের স্বার্থবিরোধী এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং এই চুক্তির সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সিপিবির সাবেক সভাপতি এবং সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যে গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে বলে মনে হয়। এমনকি ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।
তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে সাম্রাজ্যবাদ নতুন রূপে নয়া উপনিবেশবাদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এখন সরাসরি রাজনৈতিক শাসন নয়, বরং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের নীতিতেই এই নতুন ধরনের আধিপত্যের ধারণা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা চায় যেখানে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্য দেশগুলোকে কার্যত নির্ভরশীল বা অধীন অবস্থায় থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বিশেষ করে ব্রিকস জোট ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সেই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে। চীন প্রযুক্তি ও শিল্পোন্নয়নে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে এবং অনেক পুঁজিবাদী দেশ সেখানে প্রতিযোগিতা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো একক আধিপত্য ধরে রাখতে পারছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমরা একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিলাম, কিন্তু তারাও অনেক সময় এতটা ঔদ্ধত্য দেখায়নি—যতটা আজ যুক্তরাষ্ট্র দেখাচ্ছে।
কমরেড সেলিম আরও বলেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক এখতিয়ার নেই। এটিকে সরকার-টু-সরকার চুক্তি বলা হলেও, জনগণের মতামত ছাড়া এমন অন্যায্য চুক্তি করা যায় না। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন বাংলাদেশ তাদের জমিদারি। কী কিনবো, কী করবো সবই যেন তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তি গোপন রাখা যাবে না; দেশের জনগণের সামনে সব চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে। আমি সরকারকে আহ্বান জানাই একটা ওপেন ডিবেট হোক। সেখানে আমেরিকার পক্ষের লোকও নিয়ে আসুক সমস্যা নাই। আমরা প্রমাণ করে দিবো এই চুক্তি কতটা স্বার্থ বিরোধী।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এমন একটি সরল ও স্পষ্ট দেশবিরোধী চুক্তির নিষ্পত্তি শেষ পর্যন্ত রাজপথেই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তাদের একটি ঘাঁটিতে পরিণত করতে চায়—এটা এখন পরিষ্কার।
তিনি অভিযোগ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাখা হয়েছে মূলত মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থ ও অবস্থান বুঝে নিতে হবে এবং এর প্রধান মোকাবিলা হবে রাজনৈতিকভাবে। এজন্য জনগণের শক্তি গড়ে তোলা জরুরি।
তাঁর মতে, এই চুক্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার চুক্তি এবং বাংলাদেশকে এতে বিভিন্নভাবে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে রাশিয়ার কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হচ্ছে এলএনজি কেনা যাবে কি না। আবার গম কিনতেও আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে প্রতি টনে প্রায় ৩৫ ডলার বেশি দিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল “মেড ইন আমেরিকা”, এবং ডানপন্থী শক্তিগুলো ক্ষমতায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে। বিএনপি কিছু কথা বললেও, জামায়াত যে “মেড ইন আমেরিকা” তা কারও অজানা নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশের জন্য এ ধরনের চুক্তির অধীনে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অব্যাহতি দিতে হবে, কারণ তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছেন। একই সঙ্গে এই চুক্তির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং যারা এর পেছনে মদদ দিয়েছে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে।
তিনি দাবি জানান কোনো গোপন চুক্তি নয়, সব চুক্তিই জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। সরকারের কাছে তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।
তিনি বলেন, যদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকারী ভূমিকা নেয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে এবং বামপন্থী শক্তির নতুন উত্থান ঘটাতে হবে। সবশেষে তিনি এই “গোলামির চুক্তি” বাতিলের আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আমেরিকা-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সভার আলোচকদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, এই চুক্তিটি
১। অসম ২। অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩। বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ৪। সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
এই চুক্তি বাতিলের জন্য নিম্নোক্ত কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব-
১। ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল থানায় থানায় পথসভা-গণযোগাযোগ
২। ৮ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়
৩। ৭ মে সমাবেশ এবং চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাতীয় সংসদের সকল সংসদ সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি (রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী ছাড়া)।