সরকারের প্রতি বাম গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বান দেশের স্বার্থ পরিপন্থী চুক্তিসমূহ বাতিল করুন

Posted: 06 অক্টোবর, 2019

তিস্তা চুক্তি ঝুলিয়ে রেখে ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক ভারতকে দেয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ আজ ৬ অক্টোবর বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক হত্যাকাণ্ড, ভারতের নাগরিকপঞ্জী উদ্ভূত সংকট নিরসন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের জোরালো ভূমিকা বিষয়ে সুসংবাদের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু স্বাক্ষরিত ৭টি সমঝোতা স্মারক ও ৩টি প্রকল্প উদ্বোধন এবং প্রকাশিত বিবৃতিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের পরিবর্তে ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতকে দেয়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহারের পদ্ধতি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি রপ্তানির প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে বঙ্গোপসাগর পর্যবেক্ষণের জন্য রাডার বসানোর চুক্তি করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিটি চুক্তি ভারতের স্বার্থকে পরিপুষ্ট করবে। বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিবৃতিতে ভারতের নাগরিকপঞ্জির কোন উল্লেখ নেই। রোহিঙ্গা শব্দটি বিবৃতিতে নেই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের ভূমিকা রাখার কোন অঙ্গীকার নেই। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারত যা চেয়েছে বাংলাদেশ তাই দিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিটি ন্যায্য দাবিই উপেক্ষিত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, শেখ হাসিনা চুক্তিগুলোকে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের চুক্তি সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির বহিঃপ্রকাশ। নেতৃবৃন্দ বলেন, নৈতিক দুর্বলতার কারণে জনগণের আস্থাবঞ্চিত এ সরকার দেশের স্বার্থে কূটনৈতিক দরকষাকাষির যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলেছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দেশের স্বার্থবিরোধী এ সকল চুক্তি বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।