বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সরকার একতরফাভাবে আগামী ৭ জানুয়ারি যে পাতানো ‘আমি আর ডামি’ নির্বাচনের আয়োজন করেছে তা দেশকে এক ভয়ংকর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সংকটের দিকে নিয়ে যাবে। নেতৃবৃন্দ দেশকে ভয়ংকর পরিণতির হাত থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানান।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলগুলির সভা-সমাবেশের ওপর সংবিধানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেশে জরুরি অবস্থা ছাড়া এধরনের নিষেধাজ্ঞা সংবিধান বিরোধী। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অধিকার নির্বাচন কমিশনের বা কোনো সংস্হারই নেই। দেশবাসী এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
আজ ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ মার্ক্সবাদীর নেতা ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম।
সভায় নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে আগামি ৭ জানুয়ারি ২০২৪ নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেওয়া দলগুলির সভা-সমাবেশ, মিছিলের মতো গণতান্ত্রিক কর্মসূচি করতে না দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র করছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোট চাওয়ার যেমন অধিকার আছে, ভোটে না যাওয়ার এবং তা বয়কট করার ও জনগণকে ভোট বর্জনের আহ্বান জানানোর অধিকার রাজনৈতিক দলগুলোর রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সে অধিকার খর্ব করেছে। তাদের কথায় মনে হয় সভা সমাবেশ করা রাজনীতি আর নির্বাচন রাজনৈতিক বিষয় না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ও কমিশন নির্বাচনের আগে পরে ১৩ দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু জরুরি অবস্থা ঘোষণা ছাড়া এত দীর্ঘ সময় সেনা বাহিনীকে মাঠে রাখা যায় না। একটি সরকারের অধীনে নির্বাচনকালীন সময়েতো নয়ই। সরকার বেনামে জরুরি অবস্থা জারি রেখে জনগণের মতামতকে তোয়াক্কা না করে আবার যে কোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ করছি। প্রহসনের নির্বাচনের বয়কট করার জন্য জনগণের কাছে যাচ্ছি, যাব। ইতিমধ্যে সরকারদলীয় লোকজন আমাদের বাধা প্রদান ও লিফলেট ছিনিয়ে নিয়েছে। একতরফা নির্বাচন করলে দেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা সামাল দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নাই ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য দেখানোর জন্য সরকার দলীয় প্রার্থীর বাইরেও নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামী প্রার্থী, উচ্ছিষ্টভোগী সুবিধাভোগীদের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এসব প্রার্থীরা আজ নিজেরা নিজেরা মারামারি খুনাখুনি, হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে। সরকারদলীয় প্রার্থীসহ বিভিন্ন প্রার্থীরা মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, ভোট দিতে না গেলে ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা কার্ড বাতিলের হুমকি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এ তামাশার নির্বাচন বাংলার মানুষ মেনে নিবে না এবং তারা তা রুখে দাঁড়াবে।
নেতৃবৃন্দ সরকারের চাপে এবং লোভে পড়ে যারা এই ভাগাভাগির নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে নির্বাচন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশবাসী আপনাদেরকে গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে জনতার আদালতে বিচার করবে। সরকারের অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও তামাশার নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ও মূল্যবোধ শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।