জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও দাম কমানোর তামাশা করেছে সরকার

Posted: 30 আগস্ট, 2022

ডিজেলের দাম মাত্র পাঁচ টাকা কমিয়ে ১০৯ টাকা করাকে জনগণের সাথে তামাশা অভিহিত করে অবিলম্বে দাম বাড়ানোর পূর্বকালীন সময়ের দাম নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট ।

আজ ৩০ আগস্ট ২০২২ এক বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি’র সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্ক্সবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গনতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হামিদুল হক বলেন, জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পর এবার দাম কমানোর তামাশা করেছে সরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, বিপিসির লোকসান এবং তেল পাচারের কথা বলে সরকার গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছিল। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছিল বাসসহ পরিবহন ভাড়া। ফলে এই অজুহাতে দ্রব্যমূল্য আর এক দফা বাড়ানো হয়েছিল।

বাম গণতান্ত্রিক জোট এর বিরোধিতা করে যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রমাণ করে দিয়েছিল দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করলে তেলের মূল্যবৃদ্ধি করার তো কোনো কারণ নেই বরং পূর্বের দামেই বিক্রি করা সম্ভব। বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী এবং বিপিসির আর্থিক হিসাবের অসঙ্গতি (যা সংসদীয় কমিটি বলেছে) দূর করলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা হরতালে জনগণের নৈতিক সমর্থন প্রমাণ করেছে জনগণ এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি মানে না।

জনমনের অসন্তোষকে প্রশমিত করার নামে গতকাল ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা কমানোর যে ঘোষণা সরকার দিয়েছে তা জনগণের সাথে তামাশা এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধাবৃদ্ধির নতুন পাঁয়তারা বলে অভিহিত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই মূল্য কমানোর কারণে  প্রকৃত অর্থে পরিবহনের ভাড়া কমবে না, অন্যান্য ক্ষেত্রেও বর্ধিত মূল্য কমবে না তার ফলে পরিবহন মালিক ও অন্যান্যদের আয় কমবে না বরং সরকারের রাজস্ব কমবে মাত্র।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিবৃতিতে জ্বালানি তেল বিশেষত ডিজেল যা পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত হয় তার দাম কমিয়ে পুর্বের মত ৮০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানান হয়।