মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংসদীয় কমিটির মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার প্রদানে নারী ইউএনও’র পরিবর্তে কোনো পুরুষ কর্মকর্তা নিয়োজিত করার যে প্রস্তাব করেছে তা একটি একটি সংবিধানবিরোধী অবস্থান।
গতকাল ১৩ জুন সংসদীয় কমিটি প্রদত্ত প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করে সিপিবি নারী সেলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যারা এ প্রস্তাব করেছে তারা বাংলাদেশের সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে।
রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা কোন লিঙ্গের হবে সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না, তিনি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব পালন করেন। এ ধরনের প্রস্তাব করা এক ধরনের ধৃষ্টতা দেখানো। কোনোভাবেই বাংলাদেশের নারী সমাজ ও আপামর জনগণ এ প্রস্তাব গ্রহণ করবে না।
আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে বলতে চাই অতীতেও লক্ষ্য করেছি হেফাজতের দাবিতে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার ‘নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১০’ থেকে সরে এসেছে। সরকার পাঠ্যপুস্তকে পরির্বতনসহ বিভিন্ন পরিকল্পনায় নারীকে পশ্চাদপদ করার নানা মৌলবাদী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ের অবতারণা করে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি হাজার হাজার নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নারী আন্দোলনকে অবমাননা করেছে।
সিপিবি নারী সেল অবিলম্বে সংসদীয় কমিটির এ প্রস্তাব প্রত্যাহার করা এবং যারা এ প্রস্তাব করেছে তাদের বিরুদ্ধে সংবিধাান লঙ্ঘনের অপরাধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় মন্ত্রিপরিষদ বা সরকার যদি এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের ন্যূনতম আগ্রহ দেখায় তাহলে বাংলাদেশের প্রগতিশীল নারী সমাজ আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে এর বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।