
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক দুঃশাসন-জুলুম-লুটপাটের প্রতিবাদে, জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে অবাধ-নিরপেক্ষ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট আজ ১৪ অক্টোবর পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দীন কবির আতিক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।
সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে জোট সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, গত ৪৭ বছরের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিবে না। বাম গণতান্ত্রিক জোটও বর্তমান সরকারকে সেই ধরনের নির্বাচন করার সুযোগ দিবে না। বাম গণতান্ত্রিক জোটের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সকল দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। ঘোষিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য তিনি আগামী ২৩ অক্টোবর দেশব্যাপী গণঅবস্থান ও ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি

পেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
প্রেসক্লাবের সামনের সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। দমন-নিপীড়ন, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, রিমান্ডে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, অপহরণ, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাধারণ নিয়মে পরিণত করেছে। গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। তিনি আওয়ামী দুঃশাসন হটানোর সংগ্রাম ও দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলমান উত্তরাধিকারের রাজনীতি সমান্ততান্ত্রিক ব্যবস্থারই প্রতিফলন। তিনি উত্তরাধিকারের রাজনীতি উপড়ে ফেলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, বিরোধী দল ও মতকে গায়ের জোরে দমন করা হচ্ছে। দলীয়করণ, জবরদখল, ব্যাংক ডাকাতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সীমাহীন চুরি, লুটপাট, অর্থপাচার এক ভয়ানক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিচারব্যবস্থার উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব পূর্বের সকল সময়ের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে অকার্যকরী করে তোলা হয়েছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সর্বশেষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামের কালো আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি-লুটপাট আড়াল করতে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাকস্বাধীনতা হরণ করতে এ আইন ব্যবহৃত হবে।
সমাবেশে সাতক্ষীরায় গ্রেফতারকৃত বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হয়। গতকাল খুলনায় লিফলেট বিতরণকালে বাসদ (মার্কসবাদী)’র তিন নেতাকে হয়রানিমূলক আটকের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।