Revolutionary democratic transformation towards socialism

দুঃশাসন হটানো ও ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। বিনা ভোটে তথাকথিত নির্বাচিত সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ট সাধারণ জনগণ কম খেয়ে বেঁচে থাকার পথের সন্ধান করছে। আর একদল মানুষ টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে। ঐ টাকা পাচার করে বিদেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছে। দেশে বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ৫০ বছরে দেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্থনীতির বিপরীত ধারায় পরিচালিত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিবর্তন করতে গণবিরোধী এ সরকারকে হটাতে হবে। পুরো ব্যবস্থা বদল করতে হবে। এজন্য গণআন্দোলন গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। বামপন্থীদের বিকল্প শক্তি সমাবেশ ঘটাতে হবে।

আজ ৬ মার্চ, ২০২২ রবিবার, পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবি সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্সের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সভাপতি কমরেড সহিদুল্লাহ চৌধুরী, কমরেড মনজুরুল আহসান খান ও সাবেক উপদেষ্টা কমরেড শাহাদাত হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কমরেড মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেল, কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কমরেড জলি তালুকদার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের ঐক্য জোরদার করে চলমান দুঃশাসন অবসান ঘটিয়ে ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম জোরদার না করতে পারলে, এবং বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় না আনতে পারলে, মানুষের স্বার্থ রক্ষা

নেতৃবৃন্দ দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে, ভোটাধিকার ও দুঃশাসনের অবসানে দেশবাসীকে জোরদার লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সিপিবি ১০-১৬ মার্চ দেশব্যাপী সমাবেশ বিক্ষোভ করবে। এরপর বামপন্থী দল, ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে প্রয়োজনে হরতালের কর্মসূচি দেবে।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ কমিউনিস্ট পার্টির লড়াই-সংগ্রাম-ঐতিহ্য ও অর্জনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ইতিহাসে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা উজ্জ্বল ও বর্ণিল। তেভাগা, নানকার, টংকসহ নানা কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি সিপিবি ছাত্র ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগঠিত করেছে। এ দেশের ঐতিহ্যবাহী গণসংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠার পেছনে কমিউনিস্ট পার্র্টির ভূমিকাই মুখ্য। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা-কর্মীদের ওপর বারেবারে হত্যা, নির্যাতন, জেল-জুলুম-হুলিয়ার খড়গ নেমে এসেছে। কয়েক দফায় পার্টিকে বেআইনি করা হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী হাজার হাজার কমিউনিস্টকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িকতা-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাত-শিবির নিষিদ্ধের আন্দোলন,চলমান দুঃশাসনের অবসানসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামেই সিপিবি অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। এখনো পালন করে চলেছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সিপিবি তার বিপ্লবী ঐতিহ্যের ধারায় বর্তমানে কমিউনিস্ট ঐক্য ও বাম ঐক্যকে অগ্রসর করে নিচ্ছে।

দুঃশাসন

আলোচনা সভার আগে সিপিবি’র ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য লাল পাতাকর মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া সকাল ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

উল্লেখ্য সারাদেশে পার্টির বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শাখাসমূহ যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করে।


Print Printer friendly version.

Login to comment..